বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চ আবার উত্তপ্ত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে জল্পনা– কে আসবে বাংলার মসনদে? রাজ্যের জনগণের মনের ইচ্ছা কী? এই ব্লগে আমরা বিশ্লেষণ করবো আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, সম্ভাব্য সমীক্ষা, এবং কোন দল কোন ইস্যুতে জোর দিচ্ছে।


🔶 ১. বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে শাসকদলে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালে বিজেপির তীব্র চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তৃণমূল জয়ী হয়ে ফের ক্ষমতায় আসে। তবে ২০২১-এর পর থেকে রাজনৈতিক বাতাসে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

  • TMC এখন সরকারি প্রকল্প (যেমন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, দুয়ারে সরকার) ভিত্তিক উন্নয়ন প্রচারে মনোযোগ দিচ্ছে।

  • BJP নানা কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও জাতীয়তাবাদী প্রচারে মন দিচ্ছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা ও হিন্দি ভাষী অঞ্চলগুলোতে।

  • বাম-কংগ্রেস-ISF সংযুক্ত মোর্চা ধীরে ধীরে আন্দোলনের মাধ্যমে ফের রাজনীতিতে ফিরে আসতে চাইছে, বিশেষ করে ছাত্র-যুব-শ্রমিক ইস্যুতে।


🔷 ২. কী বলছে সমীক্ষা?

📊 অনুমানভিত্তিক আসন বিতরণ (294 আসনের মধ্যে):

দলসম্ভাব্য আসন
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)180–210
ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)70–100
বাম-কংগ্রেস-ISF সংযুক্ত মোর্চা0–10
অন্যান্য (নির্দল প্রার্থী, ছোট দল)0–4

👉 যদিও চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে প্রচারের কৌশল, ভোটারদের আবেগ ও নির্বাচনের সময়কার পরিস্থিতির ওপর।


🔑 ৩. প্রধান ইস্যুগুলি কী হতে চলেছে?

বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মূল ইস্যু হতে পারে:

✅ সরকারি প্রকল্প:

TMC-এর পক্ষে বড় হাতিয়ার ‘দুয়ারে সরকার’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘খাদ্যসাথী’, যা বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

❌ দুর্নীতি ও নিয়োগ কেলেঙ্কারি:

স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ ও মামলার ফলে সরকারের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত।

📉 বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান:

রাজ্যে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। নতুন কর্মসংস্থানের অভাব বিরোধীদের অন্যতম বড় ইস্যু।

🌾 কৃষক ও শ্রমজীবী সমস্যা:

কৃষি উৎপাদন, চাষের খরচ, এবং MGNREGA সংক্রান্ত সমস্যা নিয়েও অনেক কৃষিজীবী অসন্তুষ্ট।

🔥 ধর্মীয় মেরুকরণ বনাম ধর্মনিরপেক্ষতা:

BJP যেখানে জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের রাজনীতি করছে, TMC সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বার্তা তুলে ধরছে।


🧭 ৪. কোন দলের কী কৌশল?

🟩 তৃণমূল কংগ্রেস (TMC):

  • মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা কাজে লাগানো

  • সরকারি প্রকল্প প্রচারে জোর

  • শহর ও গ্রাম – উভয় স্তরে সাংগঠনিক পুনর্গঠন

🟧 BJP:

  • মোদী-ব্র্যান্ড প্রচার

  • বেকারত্ব ও দুর্নীতিকে মূল অস্ত্র করা

  • হিন্দি ভাষী, আদিবাসী, সীমান্ত এলাকার ভোটারদের লক্ষ্য

🟥 বাম-কংগ্রেস-ISF:

  • শিক্ষিত তরুণদের সংযুক্ত করা

  • আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক জমি তৈরি

  • বিকল্প হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা


📌 ৫. নতুন ভোটারদের ভূমিকা

২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রায় ২০–২৫ লক্ষ নতুন ভোটার যুক্ত হবেন, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ। তাঁরা ইস্যু-ভিত্তিক রাজনীতিতে আগ্রহী, দলীয় পরিচয় নয়। ফলে:

  • চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইন্টারনেট-নির্ভর পরিষেবা ইত্যাদি হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।

  • সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারই বড় ফ্যাক্টর হবে নতুন ভোটারদের প্রভাবিত করতে।


📣 উপসংহার: বাংলা কোন দিকে এগোচ্ছে?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি কখনওই একমাত্র গাণিতিক সমীকরণে ব্যাখ্যা করা যায় না। আবেগ, সংস্কৃতি, জনসংযোগ ও রাজনৈতিক স্মার্টনেস — সবকিছু মিলেই তৈরি হয় বাংলার নির্বাচনী রায়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এই চিত্র ব্যতিক্রম হবে না। জনগণের প্রত্যাশা, সরকারের কাজ, ও বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা — এই তিনের দোলাচলে বাংলা ঠিক করবে তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।


✍️ আপনার মতামত কী? আপনি কাকে সমর্থন করছেন এবং কেন? নিচে মন্তব্যে জানান। এই ব্লগ শেয়ার করুন যাতে অন্যরাও বাংলার রাজনীতি নিয়ে সচেতন হতে পারে।


📝 লিখেছেন: G.N.
📅 প্রকাশের তারিখ: জুলাই, ২০২৫