ভূমিকা:

বর্তমান যুগে শিক্ষা মানেই শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ থাকা নয়—প্রযুক্তি, ইন্টারনেট, ও ডিজিটাল স্কিল শেখানো এখন শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছেন ICT School Coordinators বা কম্পিউটার শিক্ষকরা। কিন্তু এই পরিশ্রমী শ্রেণিটি আজও রাজ্যে ন্যায্য মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত।


পশ্চিমবঙ্গের ICT শিক্ষকদের বাস্তব চিত্র
রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৩৭১৯ জন ICT School Coordinator রয়েছেন যাঁরা ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ে যুক্ত। তাঁরা প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ে প্রযুক্তি শিক্ষা দিচ্ছেন, শিক্ষক ও ছাত্রদের ট্রেনিং দিচ্ছেন, স্কুলের ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সামলাচ্ছেন—তবুও তাঁদের বেতন মাত্র ৬৫০০ থেকে ৭৫০০ টাকা, যা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য অত্যন্ত অপ্রতুল।


একই কাজ, ভিন্ন মর্যাদা
২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত ICT শিক্ষকরা (১ম থেকে ৫ম পর্যায়) বর্তমানে ১৯২ নম্বর P&AR অর্ডার অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা ও উন্নত বেতন পাচ্ছেন। অথচ, পরবর্তীতে আসা শিক্ষকরা—যাঁরা সমান দায়িত্ব ও কর্মতৎপরতা দেখাচ্ছেন—তাঁরা এখনও অবহেলিত।


দীর্ঘ আন্দোলন ও আবেদনের পরও নীরবতা
৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায় ICT শিক্ষকরা বহুবার সরকারের দপ্তরে আবেদন করেছেন, কালীঘাট পর্যন্ত গেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতির আশায়। সম্প্রতি ২০২4-25 অর্থবছরের বাজেটেও তাঁদের উল্লেখ না থাকায় হতাশা আরও বেড়েছে।


1086-F(P2) এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
বর্তমানে জোরালো আলোচনা চলছে মেমো নম্বর 1086-F(P2) অনুযায়ী ICT শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে। এই মেমো ধরেই যদি ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে তাঁদের বেতন এক ধাক্কায় ১৮,০০০ থেকে ২২,০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ হতে পারে।


ফেডারেশনের উদ্যোগে আশার আলো
ICT Teachers’ Federation লাগাতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে সকল পর্যায়ের শিক্ষকরা সমান মর্যাদা পান। তাঁদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অসংখ্য ICT শিক্ষক, যারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার মধ্যে থেকেও নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।


বিশেষ আবেদন নববর্ষে
নতুন বছরের প্রাক্কালে শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে একটাই আবেদন—“এই নববর্ষে যেন আমরা বঞ্চনার গ্লানি থেকে মুক্তি পাই, রাজ্য সরকার আমাদেরও ১৯২ ও 1086-F(P2)-এর আওতায় আনে।”


উপসংহার
রাজ্যে ২৬,০০০ Teacher বাতিলের পর শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত অনেকটাই নড়ে গেছে। এখন ICT শিক্ষকদের প্রতি দায়িত্ববোধ দেখানো সময়ের দাবি। কারণ তাঁরা শুধু কম্পিউটার শেখান না—তাঁরা আগামী প্রজন্মের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন।