প্রকাশের তারিখ: ২২ এপ্রিল, ২০২৫
লোকেশন: কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে এক বড়সড় সুখবর! দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পার্শ্ব -শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হলো। রাজ্যের হাজার হাজার পরা-শিক্ষকের জীবন সংগ্রামে এই সিদ্ধান্ত এক নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।
বছরের পর বছর ধরে কম বেতনে কাজ করেও অধ্যবসায়ের সাথে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন এই পার্শ্ব -শিক্ষকরা। সেই অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার পার্শ্ব -শিক্ষকদের বেতনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে।
বেতন বৃদ্ধি কতটুকু?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পার্শ্ব -শিক্ষকদের বেতন ২০১৭ সালের নির্ধারিত কাঠামোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গড় হিসাব অনুযায়ী, একজন পার্শ্ব -শিক্ষকের বেতন আগে যেখানে ছিল ১০,০০০ থেকে ১১,০০০ টাকা, এখন তা বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ১৪,০০০ থেকে ১৬,০০০ টাকায়।
সরকারি সূত্রের মতে, নতুন এই বেতন কাঠামো অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী মাস থেকেই শিক্ষকরা এই বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন।
কী বলছেন পরা-শিক্ষকরা?
এই ঘোষণায় রাজ্যের পরা-শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু শিক্ষক সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ আবার জানিয়েছেন, এই বেতন বৃদ্ধি তাঁদের পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে অনেক সাহায্য করবে।
একজন পার্শ্ব -শিক্ষক বলেন,
"আমরা দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্ট করে সংসার চালিয়েছি। সরকারের এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য নতুন বছরের উপহার।"
পাশাপাশি ICT Instructor দের দাবি
এদিকে, ICT স্কুল কো-অর্ডিনেটরদের মধ্যে এখনও একধরনের হতাশা দেখা গেছে। তারা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি — ১৯২-IT অর্ডার এবং ১০৮৬-F(P2) মেমো অনুযায়ী স্থায়ীকরণ এবং ন্যায্য বেতন কাঠামোর দাবি এখনও জারি রেখেছেন। তারা আশা করছেন, পরা-শিক্ষকদের মতোই আগামী দিনে সরকার ICT কর্মীদের দিকেও সদয় দৃষ্টি দেবে।
ফেডারেশনের বক্তব্য
শিক্ষক সংগঠনগুলোও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ফেডারেশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত পরা-শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। সংগঠন আশা করছে, বাকি চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও শীঘ্রই তাদের সমস্যার সমাধান পাবেন।
উপসংহার
এই বেতন বৃদ্ধি রাজ্যের পরা-শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা এবং আর্থিক স্থিতি দুই দিক থেকেই এগিয়ে দিলো। সরকার যেমন মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে, তেমনই শিক্ষক সমাজও আরও দায়বদ্ধ হয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
0 Comments